এবার পুরো নড়াইলে ৭ দিনের লকডাউন

নিউজ ডেস্ক আপডেট:২০ জুন, ২০২১ এবার পুরো নড়াইলে ৭ দিনের লকডাউন

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি অবনতির কারণে এবার পুরো নড়াইল জেলায় সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। আজ রোববার রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে ২৭ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার লকডাউন চলবে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধসংক্রান্ত জেলা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

১২ জুন থেকে জেলার কয়েকটি এলাকায় এক সপ্তাহের লকডাউন চলেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরের দিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত ওই লকডাউন কার্যকর ছিল।

গতকাল সন্ধ্যায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধসংক্রান্ত জেলা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। ওই সভার পর রাতে এ–সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন জেলা প্রশাসক।

গণবিজ্ঞতিতে জানানো হয়, জেলার সব জায়গায় সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শপিং মল, রেস্তোরাঁ, মুদিদোকান ও চায়ের দোকান বন্ধ থাকবে। তবে কাঁচাবাজার, মাছের বাজার ও ফলের দোকান প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। সব পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে সাপ্তাহিক হাট ও গরুর হাট। জেলার ভেতরে এবং আন্তজেলা ও দূরপাল্লার সব ধরনের গণপরিবহন, ইজিবাইক, থ্রি–হুইলারসহ সব যান্ত্রিক যানবাহন বন্ধ থাকবে। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে জরুরি পরিষেবা, চিকিৎসাসেবা, কৃষিপণ্য, খাদ্য সরবরাহ ও সংগ্রহ, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন, ইন্টারনেট, ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যংকিং, ওষুধ শিল্পসংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা এর আওতাবহির্ভূত। এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ১৩ থেকে ১৯ জুন এই এক সপ্তাহে ৬৩৬ জনের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এতে করোনা শনাক্ত হয় ২১০ জনের। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ। এ সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪ জন।

গতকালের কমিটির সভায় বলা হয়, গত এক সপ্তাহের আংশিক লকডাউন সফল করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য প্রশাসন নানা ধরনের ব্যবস্থা নেয়। নানা প্রচারণায় মানুষকে সচেতন করতে চেষ্টা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ১০টি দল প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে। রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। তারপরও মানুষ সচেতন না হওয়ায় সংক্রমণ পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সংক্রমণ ক্রমশ বাড়ছে। জানমালের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সর্বাত্মক লকডাউনে সংক্রমণ কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।

Source: www.prothomalo.com