বাইডেনের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন যাত্রা

নিউজ ডেস্ক আপডেট:২২ জানুয়ারী, ২০২১ বাইডেনের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন যাত্রা

রাজধানী ওয়াশিংটনের আকাশে নতুন সূর্য। অশান্ত সময় পেরিয়ে প্রশান্ত হওয়ার প্রত্যাশায় পুরো যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের নতুন বাসিন্দা একজন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এখন সময়ের নায়ক। জো বাইডেন ও ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের জন্য ২১ জানুয়ারি নতুন একটি দিন। যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও দিনটি সংকট-সংশয় পেরিয়ে অবারিত সম্ভাবনার হাতছানির দিন। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিভক্তির সময়ে চলমান বিশ্বের অপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ যুক্তরাষ্ট্র কতোটা এগিয়ে যাবে, কতোটা আবার থমকে দাঁড়াবে, সেটি সময়ই বলে দেবে।

তবে সময়ের অপেক্ষায় বসে নেই নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট (৭৮) জো বাইডেনের জন্য দীর্ঘ কর্মব্যস্ত দিন ছিল ২০ জানুয়ারি। নজিরবিহীন উত্তেজনা, অস্বাভাবিকতা ও চাপ উপেক্ষা করে ওয়াশিংটনের রাজনীতির চেনা মুখ শুরুর দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক গতিপথ ঘুরে দেওয়ার জানান দিয়েছেন। নিয়েছেন নানা সব পদক্ষেপ।

শুধু মাত্র একজন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্র গত চার বছর বদলে গিয়েছিল, এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। যুক্তরাষ্ট্র বদলেছে ধীরে ধীরে। যে উদার আর সহনশীল পশ্চিমা সমাজের ধারণা ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে, সে ধারণা থেকে দেশটির মধ্যে পরিবর্তন ঘটেছে। এই পরিবর্তনে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ কারণগুলো বড় জোরালো। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের এসব কার্যকারণ নিজেদের ভাসিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যেই একজন ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবির্ভাব যেন নাজুক ইতিহাসের এক অনিবার্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর পশ্চিমা দেশগুলোতে পরিবর্তন দৃশ্যমান হতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র এ পরিবর্তনের অগ্রপথিক হয়ে উঠে। ধর্ম, অভিবাসন, একের পর এক যুদ্ধ সারা পৃথিবীর সমাজ মানস বদলে দিয়েছে। আগের দশকে বিশ্বের মানুষের মধ্যে এক বিশ্ব নাগরিকত্ব বোধের যে ঢেউ উঠেছিল, তা থমকে দাঁড়ায়। উল্টো পথে হাঁটতে থাকে বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্র এই উল্টো হাঁটার অগ্রপথিক হয়ে উঠে।

২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতবিক্ষত সমাজে যেন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। এ দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ট্রাম্পকেই নিজেদের শেষ আশ্রয় মনে করেছে। যতই বলা হোক না কেন, রাজনীতির চেনা মাঠ থেকে ট্রাম্প আসেননি। ট্রাম্প কিন্তু রাজনীতির চতুর কাজই করেছেন।

২০১৬ সালে এসে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিমা সব ভণিতার খোলস খুলে ফেলে। এক নগ্ন বাস্তবতার নায়ক হয়ে ওঠেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর একের পর এক বেপরোয়া পদক্ষেপ সব হিসাব পাল্টে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র এক চলমান অসহিষ্ণু, উদীয়মান রক্ষণশীলতার উত্থানের দেশ হিসেবে দ্রুত পরিচিত পায়। মানবিকারের উদার অবস্থান থেকে দ্রুত সরে আসে। এমন ঘরে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার খলনায়ক হয়ে ওঠেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সারা বিশ্বের কাছেও যুক্তরাষ্ট্র এক ভিন্ন ভাবমূর্তি নিয়ে দাঁড়ায়। দেশের অভ্যন্তরেও যুক্তরাষ্ট্র হয়ে উঠে অন্য এক যুক্তরাষ্ট্র।

ইতিহাসের চরম অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এ বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসার একটা প্রয়াস নিয়েছে। যদিও বিভক্তির চূড়ায় দাঁড়িয়ে এমন ঘুরে দাঁড়ানো বেশ কঠিন। তা রাজনীতি ও সমাজনীতি যে পর্যায়েও হোক। মার্কিন সমাজের যে বিভক্তি তলানিতে ঠেকেছে, তা একজন প্রেসিডেন্টের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পুরোটাই ঘুরে দাঁড়াবে, এমন প্রত্যাশা ভালো, বাস্তবতা ভিন্নও হতে পারে।

তারপরও অশান্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রশান্তির বাণী শুনিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গণতন্ত্র উতরে গেছে, সহনশীলতা আর মানবিকতা ফিরে আসছে, এমন প্রত্যাশার কথা শুধু তিনি উচ্চারণ করেননি। কাজেও দেখিয়েছেন। শুরুর দিনেই কাজে নেমে পড়েছেন। অনেকটাই বিপ্লবী সরকারের মতো মানুষের কাছে পরিবর্তনের প্রত্যাশা দমে যাওয়ার আগে একটা ইতিবাচক চেতনায় মার্কিন নাগরিকদের জাগিয়ে তোলার এমন প্রচেষ্টাও নজিরবিহীন।

মহামারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ মাসে চার লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে একজন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হাল ধরেছেন। ইতিহাসকে ধারণ করে একজন কমলা হ্যারিস ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছেন।

Source: www.prothomalo.com

করোনা ভাইরাস - লাইভ আপডেট

# দেশ আক্রান্ত মৃত সুস্থ