করোনায় মৃত্যু ১৪ জন ব্যাংকারের,মোট আক্রান্ত দুই শতাধিক

নিউজ ডেস্ক আপডেট:০৬ জুন, ২০২০ করোনায় মৃত্যু ১৪ জন ব্যাংকারের,মোট আক্রান্ত দুই শতাধিক

ব্যাংকগুলোতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। এই পর্যন্ত প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন দুই শতাধিক ব্যাংক কর্মী। মারা গেছেন ১৪ জন ব্যাংকার। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের কর্মীরা। প্রাণঘাতী ভাইরাসে ব্যাংকটিতে এ পর্যন্ত ১০৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাণ গেছে তিনজনের। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যেখানে আক্রান্ত হয়েছেন অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকগুলোতে কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের হার প্রতিদিনই বাড়ছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও অনেক ব্যাংক যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। নিরাপত্তাহীনতায় চলছে। মানছে না নিয়মকানুন। সামাজিক দূরত্ব বজায়ের বালাই নেই। গাদাগাদি করে অফিস করা, লিফটে ওঠা, অধিক লোক সমাগমের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন ব্যাংকাররা। তাই দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে অধিক কর্মী সমাগম ঠেকাতে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব বণ্টন বা রোস্টারিং চালু দাবি করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

ব্যাংকগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ব্যাংকার আক্রান্তের সংখ্যা দুই শতাধিক। মারা গেছেন ১৪ জন ব্যাংকার। মৃতদের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের তিনজন, রূপালী ব্যাংকের দুজন, দি সিটি ব্যাংকের দুজন, এনসিসি ব্যাংকের চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ শাখার একজন, উত্তরা ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার একজন, জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসের প্রশাসন শাখার একজন, ন্যাশনাল ব্যাংকের একজন, অগ্রণী ব্যাংকের একজন ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখার একজন। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের পরিচালক।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া কর্মকর্তারা হলেন— সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার (পিও) মাহবুব এলাহীও দুজন। তবে বাকি দুজনের নাম জানা যায়নি। রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম খান এবং মিজানুর রহমান। জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসের প্রশাসন শাখার এক্সিকিউটিভ অফিসার হাসিবুর রহমান, সিটি ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের মুজতবা শাহরিয়ার এবং অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের আবু সাঈদ। এনসিসি ব্যাংকের চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ শাখার অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট জামশেদ হায়দার চৌধুরী, উত্তরা ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার কর্মকর্তা ওয়াহিদ মর্তুজা, ন্যাশনাল ব্যাংকের এসএভিপি মো. বাশার, অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা মো আব্দুল মালেক, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখার ক্যাশ ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দেশের অন্যতম শিল্পপতি এস আলম গ্রুপ ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের পরিচালক মোরশেদ আলম।

এদিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম ব্যবস্থাপক আশরাফ আলী।

ব্যাংকগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শারীরিক দূরত্ব মানার জন্য ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আসন বিন্যাসে তেমন কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ব্যাংকগুলোতে রোস্টার পদ্ধতি করা হলেও তা মানা হচ্ছে না। ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও একই অবস্থা বলে জানা গেছে। করোনাভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে কর্মীদের সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক ভিত্তিতে রোস্টারিং ডিউটির ব্যবস্থার দাবি জানায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল।

Source: www.jagonews24.com

করোনা ভাইরাস - লাইভ আপডেট

# দেশ আক্রান্ত মৃত সুস্থ