কম সুদের ঋণ পেতে ছোট-বড় সব প্রতিষ্ঠানের আবেদন

নিউজ ডেস্ক আপডেট:০৫ জুন, ২০২০ কম সুদের ঋণ পেতে ছোট-বড় সব প্রতিষ্ঠানের আবেদন

করোনাভাইরাসের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সরকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তা থেকে কম সুদে ঋণ পেতে ছোট-বড় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানই আবেদন করেছে। আবেদনকারীদের মধ্যে উৎপাদনশীল ও সেবা উভয় খাতের প্রতিষ্ঠান আছে। খারাপ গ্রাহকদের পাশাপাশি ভালো করপোরেট গ্রাহকেরাও এই ঋণ পেতে আবেদন করছে।

এভাবে আবেদন করার প্রধান কারণ হলো, এই ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ হলেও তাদের দিতে হবে মাত্র সাড়ে ৪ শতাংশ। বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ বহন করবে সরকার। বিদেশ থেকে ঋণ নিতেও এর চেয়ে বেশি খরচ পড়ে।

এদিকে ব্যাংকগুলো বলছে, ফেরত দেবে এমন গ্রাহকেরাই শুধু এ ঋণ পাবে। কারণ, সরকার সুদের অর্ধেক দিলেও এ ঋণ আদায়ের সব দায়দায়িত্ব ব্যাংকেরই থাকবে।

করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দিতে সরকার ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর অর্ধেক অর্থাৎ ১৫ হাজার কোটি টাকার জোগান দিতে একটি আবর্তনশীল পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সব ব্যাংক মিলে দেবে ২৮ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিতরণ করবে ১ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, এই ঋণের মেয়াদ হবে তিন বছর। যেসব প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ চলতি মূলধন-সুবিধা নিয়েছে, তার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে এই তহবিল থেকে। তবে ক্ষতিগ্রস্তরাই কেবল এই ঋণ পাবে। ঋণখেলাপিরা এই তহবিল থেকে কোনো ঋণ পাবে না। শুধু ঋণখেলাপিই নয়, তিনবারের বেশি ঋণ পুনঃ তফসিল করেছেন, এমন ব্যবসায়ীদেরও ঋণ দেওয়া যাবে না।

ব্যাংকাররা বলছেন, করোনার কারণে যে ঋণ দেওয়া হবে, তা সহজেই আদায় করা যাবে না। এ ছাড়া গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক কমে যাচ্ছে। এ জন্য ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিসতর্কতা অবলম্বন করছেন বলে জানান তাঁরা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ৩০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা ঋণ দেবে ইসলামী ব্যাংক। অন্য বড় ঋণদাতাদের মধ্যে সোনালী ব্যাংক ১ হাজার ৬২২ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ১ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা ও ডাচ-বাংলা ব্যাংক ১ হাজার ৬৮ কোটি টাকা দেবে।

এ ছাড়া অন্যান্য ব্যাংকের মধ্যে দি সিটি ১ হাজার ২৩ কোটি, এক্সিম ৯৯৪ কোটি, ইস্টার্ণ ৯৮৫ কোটি, অগ্রণী ৯১৪ কোটি, প্রাইম ৯১২ কোটি, ব্যাংক এশিয়া ৮১৯ কোটি, রূপালী ৭৮৭ কোটি, মার্কেন্টাইল ৭৭৪ কোটি, সাউথইস্ট ৭৬৬ কোটি ও ঢাকা ব্যাংক ৭৫৮ কোটি টাকা ঋণ দেবে।

বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডকে ৭২৪ কোটি টাকা ও কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনকে ৩৩৪ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

Source: www.prothomalo.com

করোনা ভাইরাস - লাইভ আপডেট

# দেশ আক্রান্ত মৃত সুস্থ