মাত্র একশ টাকার জন্য বড় ভাইকে খুন!

নিউজ ডেস্ক আপডেট:০৯ মে, ২০২০ মাত্র একশ টাকার জন্য বড় ভাইকে খুন!

মাত্র একশ টাকার জন্য আপন বড় ভাইকে খুন করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এক ছোট ভাই। হত্যার পর বড় ভাইয়ের লাশ রেস্টুরেন্টের ভেতরে রেখে বাসায় গিয়ে গোসল করে ছোট ভাই।

এমনকি রাতে বড় ভাই বাসায় না ফেরায় বাবার সঙ্গে তাকে খুঁজতেও বের হয়। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর মুগদায়।

নিহত বড় ভাইয়ের নাম জীবন ঘোষ (২৯) এবং খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত তার ছোট ভাই রাজীব ঘোষ (২৪)। গত ৭ মে রাজধানীর  ৯৩/এ উত্তর মুগদাস্থ  “জীবন ফুড ফ্যান্টাসি” নামক দোকানের ভেতরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

গত ৭ মে সন্ধ্যায় বড় ভাই জীবন ঘোষের কাছে ১০০ টাকা চান ছোট ভাই রাজীব ঘোষ। কিন্তু টাকা না দিয়ে চড় মারেন জীবন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে বড় ভাই জীবনকে ইট দিয়ে আঘাত করে খুন করেন রাজীব।

চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় এবং খুনি রাজীব দোকানের শাটার বন্ধ করে বাসায় চলে যাওয়ায় খুনিকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ছোট ভাই রাজীবকে খুনি হিসেবে শনাক্ত এবং তাকে গ্রেফতার করে মুগদা থানা পুলিশ।

শুক্রবার বাবার করা মামলায় শনিবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে গ্রেফতার রাজীব ১৬৪ ধারায় খুনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বাবা নারায়ণ ঘোষ মুগদা থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, “গত ১০ জানুয়ারি ৯৩/এ উত্তর মুগদা বাসার নিচতলায় ভাড়া নিয়ে আমার বড় ছেলের নামে ‘জীবন ফুড ফ্যান্টাসি’ নামে একটি দোকান শুরু করি। যেখানে ইফতারসামগ্রী বিক্রি করা হয়। আমি মাঝে মাঝে দোকানে যেতাম। আমার দুই ছেলে জীবন ঘোষ ও রাজীব ঘোষ নিয়মিত দোকান পরিচালনা করতো। রমজানে দুই ভাই ইফতারসামগ্রী বিক্রি করে হিসাব নিকাশ শেষ করে দোকান বন্ধ করতে রাত আনুমানিক ৭/৮টা বেজে যায়। প্রতিদিনের মতো গত ৭ মে আমার ছোট ছেলে রাজীব ঘোষ সকাল ১১টায় ইফতার বানানোর জন্য দোকানে যায়। ওইদিন বেলা দেড়টার দিকে আমার বড় ছেলে জীবন দুপুরের খাবার খেয়ে ছোট ভাইয়ের জন্য বাসা থেকে ভাত নিয়ে যায়। বিকাল আনুমানিক ৬টার দিকে আমার মেঝ ছেলে মিঠুন ঘোষ দোকানভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার জন্য বাসা থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে দোকানে যায়। সে টাকা জীবন ঘোষের কাছে দিয়ে ইফতার নিয়ে বন্ধু রতনের বাসায় চলে যায়। এরপর জীবন ও রাজীব দুই ভাই ইফতার বিক্রির পর ছোট ভাই রাজীব বাসায় চলে যায়। তার মা দরজা খুলে দেওয়ার পর তাড়াহুড়ো করে রাজীব গোসলখানায় চলে যায়। রাজীব গোসল থেকে বের হলে আমি তাকে জিজ্ঞাস করি, ‘জীবন কোথায়?’ তখন সে আমাকে জানায়, ‘জীবন দোকানের পেছনের গেটে তালা দিয়ে বের হয়েছে, সে গেটে তালা লাগানো দেখে আসছে।’ দোকানের পেছন থেকে বের হওয়ার জন্য আলাদা একটি গেট রয়েছে। আমরা মোবাইলে টাকা না থাকায় আমি রাত আনুমানিক পৌনে ৮টার দিকে পাশের বাসার ভাড়াটিয়ার মোবাইল দিয়ে জীবনের মোবাইলে ফোন দিলে তার নম্বরটি বন্ধ পাই। আমি ভাবছি হয়তো মোবাইলের চার্জ শেষ তাই মোবাইল বন্ধ। অথবা জীবন মোবাইল বন্ধ করে রেখেছে। বাইরে তখন অনেক বৃষ্টি হচ্ছিল, হয়তো সে আটকা পড়েছে, বাসায় আসতে পারছে না। রাত ৯টার দিকে আমি ও আমার ছোট ছেলে রাজীব বাসা থেকে দোকানের ডুপ্লিকেট চাবি নিয়ে জীবনকে খুঁজতে বের হই। রাজীব দোকানের শাটার খুলে লাইট জ্বালিয়ে চিৎকার দিয়ে বলে, বাবা ভাই নাই। এসময় আমি দোকান থেকে একটু দূরে ছিলাম। ছোট ছেলের চিৎকার শুনে আমি দ্রুত দোকানে যাই। দোকানের ভেতরে গিয়ে দেখি, জীবনের দেহ দোকানের মেঝেতে পড়ে আছে। চারপাশে রক্ত। দোকানে রাখা হাত মোছার গামছা জীবনের গলায় পেঁচানো, তার মাথার পেছনে গভীর ক্ষত। সেই ক্ষত থেকেই রক্ত ঝরছে। আমি তখন ডাক চিৎকার করতে থাকলে আশেপাশের লোকজন এসে জড়ো হয়। এরপর খবর পেয়ে মুগদা থানা পুলিশ আসে।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের সবুজ জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) রাশেদুল হাসান বলেন, নির্মম ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর সুকৌশলে ভিকটিম জীবন ঘোষের মরদেহ দোকানের ভেতরে ফেলে রেখে দোকানের শাটার তালাবদ্ধ করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ইট রাস্তায় এবং দোকানের চাবি ম্যানহোলে ফেলে বাসায় ফেরেন খুনি রাজীব।

ওই ঘটনায় শুক্রবার (৮ মে) মুগদা থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা নারায়ণ ঘোষ। মামলা নং-৩।

রাশেদুল হাসান আরও বলেন, মুগদা থানা পুলিশ হত্যা মামলার মূল আসামিকে শনাক্তে তদন্ত শুরু করে। আশপাশের ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সেই ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বড় ভাই জীবন ঘোষ হত্যায় ছোট ভাই রাজীব ঘোষকে (২৪) শনাক্ত করা হয়। এরপর গতরাতে অভিযান চালিয়ে মুগদা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা, ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মাসুদুর রহমান ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে থানা পুলিশ রাজীব ঘোষকে গ্রেফতার করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে রাজীব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং শনিবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দেয়া তথ্য এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায়ই জীবনের কাছ থেকে টাকা নিতেন রাজীব। গত ৭ মে ৯৩/এ, উত্তর মুগদার জীবন ফুড ফ্যান্টাসি দোকানে কাজ করছিলেন দুই ভাই। ওইদিনও জীবনের কাছে ১০০ টাকা চান রাজীব। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাজীব বড় ভাইয়ের সঙ্গে বাকবিতণ্ডে জড়ান। একপর্যায়ে জীবন একটা চড় মারেন রাজীবের গালে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে বাইরে আসেন রাজীব। বাইরে তখন ইফতারের সময়। রাস্তায় মানুষের উপস্থিতি নেই। দোকারের শাটারের বাইরে থাকা একটা ইট নিয়ে ভেতরে ঢুকে রাজীব ঘোষ বড় ভাই জীবন ঘোষের মাথায় পেছনের দিক সজোরে একাধিক আঘাত করেন।

জীবন ঘোষ মারা গেছেন ভেবে ভয়ে মোবাইল ফোন, দোকানের চাবি নিয়ে বাইরে আসেন রাজীব ঘোষ। শাটার তালাবদ্ধ করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ইট রাস্তায় এবং দোকানের চাবি ম্যানহোলে ফেলে বাসায় ফেরন তিনি।

রাজীবকে খুনি হিসেবে শনাক্তের পর তার দেয়া তথ্য মতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ইট এবং বাসার বাথরুম থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় পরনে থাকা গেঞ্জি জব্দ করেন।

Source: www.jagonews24.com

করোনা ভাইরাস - লাইভ আপডেট

# দেশ আক্রান্ত মৃত সুস্থ