এপ্রিল মাসে নয় হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছে প্রবাসীরা

নিউজ ডেস্ক আপডেট:০৪ মে, ২০২০ এপ্রিল মাসে নয় হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছে প্রবাসীরা

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে অনেক দেশে এখন লকডাউন চলছে। এটা সত্ত্বেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠানো অব্যাহত রেখেছেন। এপ্রিলে মাসে প্রবাসীরা ১০৮ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যার মূল্য বাংলাদেশি টাকায় ৯ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা।

সারা দেশের ব্যাংক শাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং , এনজিও ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে তা পৌঁছে যাচ্ছে সুবিধাভোগী পর্যন্ত। মার্চের মাসে এসেছিল ১২৮ কোটি ৬৮ লাখ ডলার এবং গত বছরের এপ্রিল মাসে এসেছিল ১৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

হিসাব অনুযায়ী আয় কমেছে কিন্তু ডলার পাঠানো অব্যাহত রেখেছেন প্রবাসীরা। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হয়েছে ৩ হাজার ৩১১ কোটি ডলার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন যে বাংলাদেশি শ্রমিকেরা এমন অনেক দেশে আছেন, যা এখনো লকডাউন হয়নি। দেশ লকডাউন হলেও পরিবার চালানোর জন্য ঋণ করে টাকা পাঠাচ্ছেন। এভাবে তারা কত দিন চলবে সেটা অনিশ্চিত।

প্রবাসীদের সহায়তার জন্য এখনই সরকারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। যাঁরা ফিরে আসছেন তাঁদের সহায়তার জন্য তহবিল গঠন প্রয়োজন।

জানা যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে ভালো মাধ্যম প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। করোনা মহামারির জন্য কমে গেছে প্রবাসীদের আয়। প্রবাসী-অধ্যুষিত বেশিরভাগ দেশ ভাইরাসে জর্জরিত। সেসব দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলছে লকডাউন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত মার্চ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১২৮ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। গত বছরের মার্চে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। গত মার্চে মাসেই রেমিট্যান্স কমে প্রায় ১২ শতাংশ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৫ কোটি ডলার। গত ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স আসে ১৬৯ কোটি ডলার, সেটা জানুয়ারিতে ৫ কোটি ডলার কমে হয়ে যায় ১৬৪ কোটি ডলারে।

জানা যায়, যেসব দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে, সেসব দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে রেমিট্যান্স হাউস ও ব্যাংকগুলো বন্ধ করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশি প্রবাসিরা বিপদের মুখে পড়েছেন।

দেশের রেমিট্যান্স আহরণের শীর্ষ ১৫ টি দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, ওমান, কাতার, ইতালি, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, জর্ডান ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা দেয় সরকার। তার ফলে, ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে ২ টাকা করে প্রণোদনা পাচ্ছেন।

এই জন্য বাজেটে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এটার জন্য রেমিট্যান্স আসা বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাতে বড় ধরনের ব্যঘাত ঘটাল করোনাভাইরাস।

Source: www.prothomalo.com