ফেসবুকে স্বাস্থ্য সচিবের সমালোচনা করায় চিকিৎসককে শোকজ

নিউজ ডেস্ক আপডেট:১৯ এপ্রিল, ২০২০ ফেসবুকে স্বাস্থ্য সচিবের সমালোচনা করায় চিকিৎসককে শোকজ

এন-৯৫ মাস্ক ও পিপিই না পেয়ে ফেসবুকে স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে স্ট্যাটাস দেওয়ায় নোয়াখালীর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। ওই চিকিৎসকের নাম আবু তাহের। তিনি ওই হাসপাতালের সহকারী সার্জন (অ্যানেসথেটিস্ট) হিসেবে কর্মরত।

আজ শনিবার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পত্রে ওই কৈফিয়ত তলব করা হয়। যাতে কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে না, তিন দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ২৪মিনিটে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার/সহকারী সার্জন (এ্যানেসথেসিওলজিস্ট) ডা. আবু তাহের ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া স্বাস্থ্য সচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করে একটি স্ট্যাটাস দেন।

তাতে তিনি লেখেন, ‘আমি নোয়াাখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে কর্মরত একজন এ্যানেসথেসিওলজিস্ট। রোগীর সবচেয়ে কাছ থেকে আমি চিকিৎসা দেই। গত ১ মাসে প্রতিদিন হাসপাতালে গিয়েছি। এখন পর্যন্ত আমিসহ আমার ডিপার্টমেন্টের কেউ ১টিও এন৯৫/কেএন৯৫/এফএফপি-২ মাস্ক পাইনি। তাহলে স্বাস্থ্য সচিব কেন মিথ্যাচার করলেন যে, উনি এন৯৫ ইকোয়েভেলেন্ট মাস্ক দিচ্ছেন? তাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উনি মিথ্যা বলছেন? এই মিথ্যাচারের শাস্তি কী হবে?

গত ১ মাসে আমার ডিপার্টমেন্টের ৮ জনের জন্য ২টি পিপিই দেওয়া হয়েছে। এই হলো পর্যাপ্ত পিপিই মজুদ। ওহ কি বলবেন, আমরা কাজ করি না? গত ১ মাসে ১৫০টির মতো অপারেশন আমি একাই করেছি। বাকিদের হিসাব দিলাম না। আপনাদের ওসব পিপিই, মাস্ক না পেয়েও আমরা বসে নাই, বসে থাকবোও না। কিন্তু জাতির সামনে মিথ্যাচার কেন করবেন?

আমি নিজের বেতনের টাকায় কেনা সার্জিক্যাল মাস্ক পরে প্রতিদিন অপারেশন করি। পিপিইটাও নিজের টাকায় কেনা আছে। কিন্তু, অন্যরা পিপিই না পরলে একা পরে কী হবে, তাই পরি না। গত ৩ মাসে কী প্রস্তুতি নিয়েছেন? অথচ এখন বলেন এগুলো পাওয়া যাচ্ছে না।

আমাদের অনেকে আজ আপনাদের এসব মিথ্যাচারের কারণে আক্রান্ত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এরকম অনেক মিথ্যা প্রস্তুতির নাটক সাজিয়ে হাজার কোটি টাকা লোপাট করছে কিছু লুটেরার দল।’ 

এরপর ওই স্ট্যাটাস দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ডা. আবু তাহেরের কাছে শো-কজ চেয়ে চিঠি পাঠান হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরি। ৩ দিনের মধ্যে শো-কজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। 

চিঠিতে হাসপাতালে পিপিইসহ যাবতীয় সুরক্ষা সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকা ও সরবরাহ করার পরও এ ধরনের মন্তব্য সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়। 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য আজ সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মুঠোফোনে ফোন দিয়ে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

Source: www.banglanews24.com

করোনা ভাইরাস - লাইভ আপডেট

# দেশ আক্রান্ত মৃত সুস্থ