ব্যাংক খোলা রাখার বিরুদ্ধে ফেসবুকে মন্তব্য, ব্যাংকার বরখাস্ত

নিউজ ডেস্ক আপডেট:১৬ এপ্রিল, ২০২০ ব্যাংক খোলা রাখার বিরুদ্ধে ফেসবুকে মন্তব্য, ব্যাংকার বরখাস্ত

করোনা দুর্যোগকালে দেশ ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সীমিত আকারে চালু রয়েছে ব্যাংক। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ, উস্কানিমূলক ও বিরূপভাবে মন্তব্য লিখেছেন কিছু ব্যাংকার। এমন অভিযোগে বেসরকারি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, ব্যাংক খোলা রাখার বিষয়ে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের নোয়াখালী দশগাড়িয়া শাখার একজন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন। একজন সিনয়র ব্যাংক কর্মকর্তার এ ধরনের মন্তব্য চলমান পরিস্থিতিতে সেবা প্রদান করা অন্য ব্যাংককর্মীদের নিরুৎসাহিত করছে। মহামারির এ সময়ে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচার লঙ্ঘনের দায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ব্যাংকের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগ থেকে ইস্যু করা চিঠিতে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি মন্তব্যের সূত্র ধরে আপনাকে এখন থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্তকৃত সময়ে আপনি শুধু মূল বেতন, মেডিকেল ভাতা ও বাড়িভাড়া (যদি প্রাপ্য হন) পাবেন।

এ বিষয়ে জানতে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এম শহীদুল ইসলামকে মোবাইলে ফোন করা হয়। তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, সারাবিশ্বের মতো দেশে এখন মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ক্রান্তিকাল যাচ্ছে। সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। কিন্তু দেশ ও মানুষের স্বার্থে এ দুর্যোগের সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমিত আকারে ব্যাংকিং সেবা দিতে হচ্ছে। শুধু ব্যাংক নয় জরুরি প্রয়োজনে সরকারের অনেক সংস্থাও এ সময়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। পুলিশসহ আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছে। ব্যাংকের তুলনায় তাদের ঝুঁকি অনেক বেশি। কিন্তু সংকটকালে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হয়। তা না হলে বিশাল গোষ্ঠী বিপাকে পড়বে।

তিনি বলেন, এ সময় ব্যাংক পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে অর্থনীতিতে আরও ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। সাধারণ মানুষ কষ্টের অর্জিত অর্থ ব্যাংকে আমানত রেখেছে বিভিন্ন প্রয়োজনে। ব্যাংকের মাধ্যমে আমাদের শিল্পশ্রমিকদের বেতন দিতে হচ্ছে। পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে হচ্ছে। এসব সেবার আর্থিক কার্যক্রম ব্যাংকের মাধ্যমে করতে হচ্ছে। এসব বিবেচনায় সীমিত আকারে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত ক‌রে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে সেবা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ কর্মকর্তা বলেন, নিজের জীবন এবং পরিবারকে ঝুঁকিতে রেখে যেসব ব্যাংককর্মী দায়িত্ব পালন করছেন তাদের জন্য ইতোমধ্যে বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের এ প্রাদুর্ভাবে সাধারণ ছুটি চলাকালে যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বশরীরে ১০ দিন অফিস করবেন; ভাতা হিসেবে ওই কর্মীরা পাবেন বাড়তি এক মাসের বেতন। ব্যাংকের স্থায়ী, অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এই সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। বিশেষ প্রণোদনা ভাতার পরিমাণ মাসিক সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা হবে।

এছাড়া ব্যাংকারদের বিশেষ স্বাস্থ্যবীমা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হলে ব্যাংকাররা পাবেন পাঁচ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা। এছাড়া মৃত্যু হলে স্বাস্থ্যবীমার পাঁচগুণ বিশেষ অনুদান পাবে পরিবার। আক্রান্ত হওয়ার সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে সেই অর্থ পরিশোধ করবে ব্যাংক। এছাড়া সার্বিক চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।

Source: www.jagonews24.com

করোনা ভাইরাস - লাইভ আপডেট

# দেশ আক্রান্ত মৃত সুস্থ