ঢাকা থেকে ৬ দিনেও বরিশালে আসেনি করোনার রিপোর্ট

নিউজ ডেস্ক আপডেট:০৪ এপ্রিল, ২০২০ ঢাকা থেকে ৬ দিনেও বরিশালে আসেনি করোনার রিপোর্ট

করোনা সন্দেহে রোগীদের নমুনা পাঠানোর ৬ দিন পরও মেলেনি পরীক্ষার রিপোর্ট। ফলে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকা কেউ করোনা আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

এমনকি এখানে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় মারা যাওয়া পটুয়াখালীর জাকির হোসেন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ছিলেন কি না, তা-ও জানা সম্ভব হয়নি।

ফলে সুস্থ অবস্থায় এসব মানুষের সঙ্গে সম্পর্কযুক্তরা বর্তমানে ঝুঁকিতে আছেন কি না, তা-ও সঠিকভাবে জানা যাচ্ছে না। শেবাচিম হাসপাতালের করোনা সেলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা থেকে রিপোর্ট আনার চেষ্টা চলছে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত রিপোর্ট দিতে পারেনি আইইডিসিআর।

এদিকে করোনা আতঙ্কে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষকে সহায়তা দেয়ার নামে একদিকে যেমন উঠছে চাঁদাবাজির অভিযোগ তেমনি সহায়তা বিতরণে সমন্বয় না থাকায় কারও কারও একাধিকবার সহযোগিতা পাওয়া আর কারও একেবারেই সাহায্য না পাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসন বলছে, সহায়তা বিতরণের বিষয়টি সমন্বয় করার চেষ্টা চলছে। দু-এক দিনের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা তাদের।

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল ক্যাম্পাসে নবনির্মিত একটি ভবনে স্থাপন করা হয়েছে করোনা ইউনিট। এ পর্যন্ত এই ইউনিটে ভর্তি হয়েছে মোট ৯ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছে ২ জন এবং ৪ জন বাড়ি ফিরে গেছে সুস্থ হয়ে।

চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩ জন। হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, যে দু’জন মারা গেছে তাদের মধ্যে একজন ছিল হার্টের রোগী। ভুলক্রমে তাকে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল।

মারা যাওয়া অপরজন পটুয়াখালীর জাকির হোসেনের করোনা সংক্রান্ত সব উপসর্গই ছিল। এখানে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা যেমন নেই তেমনি ঢাকায় ড্রপলেট (করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান) পাঠানোরও কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ড্রপলেট পাঠাতে যে কিট দরকার তা-ও আমরা পাইনি।

তারপরও বহু কষ্টে অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে গত ২৮ মার্চ মারা যাওয়া জাকির হোসেনসহ মোট ৬ জনের ড্রপলেট ঢাকায় পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত পরীক্ষার সেই রিপোর্ট বরিশালে এসে পৌঁছায়নি। করোনা ইউনিটের দায়িত্বে থাকা শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক সহযোগী অধ্যাপক মনিরুজ্জামান শাহিন বলেন, আমাদের পাঠানো নমুনা রোববারই আইইডিসিআরে পৌঁছেছে।

তারা বিষয়টি আমাদেরকে নিশ্চিতও করেছে। রিপোর্ট পেতে এত দেরি কেন হচ্ছে, সে ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশা করছি আজ-কালের মধ্যে রিপোর্ট পেয়ে যাব।

দেরি বলতে ওরা (আইইডিসিআর) আমাদেরকে যেটা বলেছে তা হল সারা দেশ থেকেই পরীক্ষার জন্য নমুনা যাচ্ছে সেখানে। যে কারণে দ্রুত পরীক্ষা এবং রিপোর্ট দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তবে তারা আমাদেরকে নিশ্চিত করেছে যে বৃহস্পতি/শুক্রবারের মধ্যেই পরীক্ষার রিপোর্ট পাঠিয়ে দেবে। বরিশাল নাগরিক পরিষদের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, এমনিতেই বরিশালে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই।

পিসিআর এলেও তা বসিয়ে কবে নাগাদ পরীক্ষা শুরু হবে বলতে পারছেন না কেউ। এমন অবস্থায় ঢাকা থেকে যদি ৬ দিনেও করোনা সংক্রমণ পরীক্ষার রিপোর্ট না আসে তাহলে কী করে এটা প্রতিরোধ করব?

এদিকে দুর্গতদের ত্রাণ দেয়ার নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে পটুয়াখালীর বাউফলে। সেখানে কর্মহীন ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে খাদ্যদ্রব্য বিতরণের নামে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের বাধ্য করা হচ্ছে পাঁচশ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে।

রোববার বিকালে কনকদিয়া স্যার সলিমুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক বৈঠকে এভাবে চাঁদা তোলার সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে ১৭টি প্রাথমিক ও ৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৩টি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন প্রায় ১৭০ জন শিক্ষক-কর্মচারী।

প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দুই হাজার, সহকারী শিক্ষকদের এক হাজার ও কর্মচারীদের পাঁচশ’ টাকা করে চাঁদা ধার্য করা হয়েছে। আগামী শুক্রবারের মধ্যে তা দিতে হবে।

এক প্রতিষ্ঠান প্রধান বলেন, তাকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফোন করে ওই টাকা তুলে দেয়ার জন্য বলেছেন। তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষকই কাছাকাছি নেই।

এ কারণে খুবই বিপদের মধ্যে আছি। কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বলেন, আমাদের নাম বলবেন না। নির্যাতনের মধ্যে আছি, প্রতিবাদও করতে পারছি না। কেননা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতারা।

 

এক শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক তাকে এক হাজার টাকা দেয়ার জন্য বলেছেন। দূরে থাকায় আজ (বুধবার) বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছেন। এক ব্যবসায়ী বলেন, আমার কাছে পাঁচ হাজার টাকা চেয়েছে। আমি তিন হাজার দিয়েছি। কনকদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ইউনুচ দাবী করেন, কোনো চাপাচাপি করে টাকা নেয়া হয় না।

যে যা পারে সেটাই দেয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে টাকা তুলছি। কনকদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন হাওলাদার বলেন, চাঁদা নেয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষে ত্রাণ দেয়া হবে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইফসুফ আলী হাওলাদার বলেন, যারা স্বেচ্ছায় দিতে আগ্রহী তাদের কাছ থেকেই টাকা নেয়া হচ্ছে। ওই টাকা দিয়ে পাঁচশ’ জন নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে। প্রত্যেককে প্রায় এক হাজার টাকা মূল্যের খাদ্যদ্রব্য দেয়া হবে।

বরিশালসহ বিভিন্ন জায়গায় করোনাদুর্গতদের মধ্যে সহায়তা দেয়া নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে জটিলতার। সহায়তা বিতরণে কোনো সমন্বয় না থাকায় কোনো কোনো ব্যক্তি বা পরিবার যেমন একাধিকবার সহায়তা পাচ্ছে তেমনি কেউ কেউ আবার কিছুই পাচ্ছে না।

বর্তমানে বরিশাল নগরে জেলা প্রশাসন, মেট্রোপলিটন পুলিশ, বিসিসি, বিআইডব্লিউটিসি, বাসদ এবং বরিশাল আবদুর রব সেরনিয়াবাত প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিয়মিত সহায়তা বিতরণ করছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো সমন্বয় না থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা। উদীচী বরিশালের সভাপতি সাইফুর রহমান মিরন বলেন, কোনো কোনো এলাকায় দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। কিছু ব্যক্তি এবং পরিবার একাধিকবারও সহায়তা পাচ্ছে।

আবার এমন দরিদ্র মানুষ রয়েছে যারা এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পায়নি। বিষয়টি নিয়ে আলাপকালে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. অজিয়ার রহমান বলেন, সমস্যাটি সম্পর্কে আমরাও অবগত। এরই মধ্যে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে বলা হয়েছে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা বিতরণ করতে। অন্য যারা সহায়তা দিচ্ছে তাদেরও অনুরোধ জানাব আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করার। সমন্বয় হলে দরিদ্র মানুষের সাহায্য প্রশ্নে যেমন ওভারল্যাপিং হবে না, তেমনি সবার সহায়তা পাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত হবে।

Source: jugantor.com

করোনা ভাইরাস - লাইভ আপডেট

# দেশ আক্রান্ত মৃত সুস্থ