প্রথমবারের মতো ইনিংস ব্যবধানে জয় বাংলাদেশের

নিউজ ডেস্ক আপডেট:০২ ডিসেম্বর, ২০১৮ প্রথমবারের মতো ইনিংস ব্যবধানে জয় বাংলাদেশের

টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রা শুরুর পর থেকে এমন একটি দিনেরই স্বপ্ন দেখে এসেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ১১২টি টেস্ট খেলা হয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে জিতেছেও ১২টিতে। কিন্তু টাইগারদের কপালে একটিও ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সৌভাগ্য জোটেনি। বরং, একের পর এক ইনিংস ব্যবধানে হারতেই ছিল অভ্যস্ত।

এবার সেই অধরা স্বাদটিও পেয়ে গেলো টাইগাররা। এক সময় যারা ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের একাধিপত্য বিস্তার করে ফেলেছিল, এক সময় যাদের মনে করা হতো- ক্যারিবীয়দের ক্রিকেট সূর্য বুঝি কখনোই অস্ত যাবে না, সেই দেশটিকেই বাংলাদেশ নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারেরমত ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে রেকর্ড গড়ে ফেললো। ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের গৌরবম জয়টি এলো ইনিংস ও ১৮৪ রানের ব্যবধানে।

সে সঙ্গে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করলো বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে ৬৪ রানে জয়ের পর এই টেস্টে ইনিংস ও ১৮৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়। নিশ্চিত এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এক সিরিজ হয়ে থাকবে। অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডকে হারানোর চেয়েও কম গুরুত্বপূর্ণ নয় এই সিরিজ জয়।

এ নিয়ে ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয়বার হোয়াইটওয়াশ করলো বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৯ সালে ক্যারিবীয়দের মাটিতে ২-০ ব্যবধানে জিতে এসেছিল সাকিবের নেতৃত্বে। এবার ৯ বছর পর আবারও সেই সাকিবের নেতৃত্বেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ করলো টাইগাররা। এ নিয়ে মোট তিনবার প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারলো বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে ৫০৮ রানের পাহাড় গড়ার পর সেই পাহাড়ে চাপা দিতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল বোলারদের জ্বলে ওঠা। স্পিনিং উইকেট। সেখানে বাংলাদেশের চার স্পিনার এক সঙ্গে জ্বলে উঠবেন সেটাই ছিল প্রত্যাশা। যেমনটা হয়েছিল চট্টগ্রাম টেস্টে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে চারজনের সবাইকে প্রয়োজন হয়নি। একা সাকিব-মিরাজই ধ্বস নামিয়ে দিলেন। ১১১ রানে অলআউট করে দিলেন ক্যারিবীয়দের। মিরাজ একাই নিলেন ৭ উইকেট। বাকি ৩টি সাকিবের।

 

৩৯৭ রানের বিশাল লিড। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দলকে ফলোঅন করালো বাংলাদেশ। ৩৯৭ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের অবস্থার উন্নতি করতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। শুরু থেকেই সাকিব মিরাজের ঘূর্ণিতে দিশেহারা। এই ইনিংসে একা সাকিব আর মিরাজ সফরকারীদের ওপর হামলে পড়েননি। তাইজুল এবং নাঈমও যোগ দিয়েছেন।

তবুও কাজের কাজটি করে দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই ইনিংসেও তিনি নিলেন ৫ উইকেট। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা শিমরন হেটমায়ারকে ফিরিয়েছেন। বাংলাদেশের জয়ের মূল ভিতটাই রচনা করে দিয়েছেন তিনি। তার ঘূর্ণি ফাঁদে জড়িয়ে একের পর এক উইকেট হারিয়েছেন ক্যারিবীয়রা। দুই ইনিংস মিলে মিরাজ উইকেট নিলেন ১২ টি। দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হলো ২১৩ রানে।

দুর্দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাল ধরেছিলেন শিমরন হেটমায়ার। ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে একের পর এক ছক্কা হাঁকাচ্ছিলেন তিনি। একের পর এক ৯টি ছক্কা হাঁকিয়ে ৯২ বলে তিনি করেছিলেন ৯৩ রান। এর মধ্যে সাকিবের এক ওভারেই মেরেছেন ৩টি ছক্কা। টেস্ট ম্যাচে এসে ওয়ানডেও নয়, রীতিমত টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ব্যাট খেলেছিলেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটসম্যান।

২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাঁদেরই মাঠে ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ। তখন নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা চোট পেলে সাকিবের নেতৃত্বে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল দল। ৯ বছর পর সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ আবারও ধবলধোলাই, এবার ঘরের মাঠে সেই সাকিবের নেতৃত্বেই। এই সিরিজে ট্যাকটিসের ক্ষেত্রে সাকিবের ক্রিকেটীয় মস্তিষ্ক যেন কমিকের ‘চাচা চৌধুরী’র মতো—কম্পিউটারের চেয়েও প্রখর!

সিরিজ শুরুর আগে দলকে উদ্দীপ্ত করেছেন চার মাস আগের সেই হারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে। মাঠে নেমে স্পিনারদের ব্যবহার করছেন দারুণ মুনশিয়ানার সঙ্গে। সাকিব নিজেও ছিলেন ঘূর্ণি-ছন্দে। ক্যারিবীয় ওপেনার ব্রাফেটকে তো দুইবারই আউট করেছেন ইনিংসের প্রথম ওভারে। আর মিরাজ? ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট। টেস্টে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এক ম্যাচে ন্যূনতম ১০ উইকেট নিলেন মিরাজ। তার চেয়েও বড় ব্যাপার, এই ম্যাচে ১১২ রান খরচায় ১২ উইকেট নিয়ে টেস্টে কোনো বাংলাদেশির সেরা বোলিং ফিগারটা নতুন করেও লিখিয়েছেন মিরাজ। আগের রেকর্ডটা তাঁরই ছিল। সেই যে ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ১৫৯ রানে ১২ উইকেট।

বাংলাদেশের জয়ের এই সিরিজ হয়ে থাকল স্পিনারদের। চট্টগ্রামে মোট ৪০ উইকেটের মধ্যে ৩৪ উইকেট নিয়েছিলেন দুই দলের স্পিনাররা। এর মধ্যে ২০ উইকেট ছিল বাংলাদেশের স্পিনারদের। মিরপুরে স্পিনারদের উইকেটসংখ্যা ৩৭। এর মধ্যে ২০টি উইকেট যে বাংলাদেশের ‘স্পিন চতুষ্টয়’ ভাগ করেছেন তা আর বলতে! আসলে এই সিরিজ তো স্পিনারদের।

Source: www.jagonews24.com

করোনা ভাইরাস - লাইভ আপডেট

# দেশ আক্রান্ত মৃত সুস্থ