অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক আপডেট:০২ নভেম্বর, ২০১৮ অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের নেতা শেখ হাসিনা ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। এ বিষয়ে তারা কিছু বলেননি। আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে কাদের বলেন, কিছু কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, কিছু কিছু বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকেও ভদ্রতার সঙ্গে শালীনতার সঙ্গে জবাব দেয়া হয়েছে।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত গণভবনে কথা হয় দুইপক্ষে। সংলাপ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কামাল হোসেন বলেন, ভালো আলোচনা হয়েছে।
সংলাপ থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। ড. কামাল হোসেনসহ সবার কথা আমাদের নেত্রী মন নিয়ে শুনেছেন। একজন দুইবার তিনবার চারবার কথা বলেছেন। তিনি একবারও অধৈর্য হননি। আমাদের পক্ষ থেকেও আমাদের সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দিয়েছেন।

ঐক্যফ্রন্টের দাবি ছিল সাত দফা। তবে প্রধান দাবি ছিল সংসদ ভেঙে দিয়ে সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন। এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা সংবিধানের বাইরে যাব না।

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তাদের যেভাবে যুক্তি দিয়েছেন তাতে মনে হয়েছে উনাদের অনেকেই কনভিন্সড। ঐক্যফ্রন্ট চাইলে আবারও আলোচনা হবে। তবে আমরা সংবিধানের বাইরে যেতে পারবো না- এটাও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আলোচনার দুয়ার সবসময় খোলা থাকবে। তারা চাইলে আলোচনা আবারও হবে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) এও বলেছেন- সরকার নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, একটা ব্যাপার পরিষ্কারভাবে বলেছি, ড. কামাল হোসেন সাহেবের চিঠির উত্তরেও একটা কথা লেখা ছিল সেখানে। বলা ছিল, সংবিধানসম্মত সকল বিষয়ে আলোচনা হবে, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার বিষয়। কাজেই উই কেন নট গো বিয়ন্ড দ্য কনস্টিটিউশন।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে কাদের বলেন, না, এসব কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়নি। আমার মনে হয় প্রাইম মিনিস্টার যেসব যুক্তি দিয়ে কথা বলেছেন, তাদের নেতৃবৃন্দ অনেকেই কনভিন্সড হয়েছেন বলে আমরা মনে করি।

সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনের দাবি সংলাপে নাকচ হয়েছে। কাদের বলেন, পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সংসদ ভেঙে নির্বাচন হয় না। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের উদাহরণ দেয়া হয়েছে। আসলে নির্বাচন সব দায় দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন। শিডিউল ঘোষণার পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান ইলেকশন কমিশনের ওপর ন্যস্ত হবে। কাজেই এসব বিষয়ে তাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই, তাদের শঙ্কার কোনো কারণ নেই।

তিনি বলেন, আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এখানে কিছু কিছু বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, সভা-সমাবেশ তথা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। কাদের বলেন, সভা-সমাবেশে বাধা না দেয়ার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে ঐক্যফ্রন্টকে। তবে রাস্তা বন্ধ করে নয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রয়োজনে একটি কর্নার করে দেয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে সংলাপে ড. কামাল হোসেন এবং মির্জা ফখরুলের কাছ থেকে তালিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আশ্বাস দিয়েছেন সেই তালিকা দেখে যেটা রাজনৈতিক মামলা মনে হবে, সেটা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Source: www.jagonews24.com

করোনা ভাইরাস - লাইভ আপডেট

# দেশ আক্রান্ত মৃত সুস্থ