স্ট্রোক নয় হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় আইয়ুব বাচ্চুর

নিউজ ডেস্ক আপডেট:১৮ অক্টোবর, ২০১৮ স্ট্রোক নয় হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় আইয়ুব বাচ্চুর

তার অসুস্থতার কোনো আগাম খবর ছিলো না। সুস্থ ছিলেন। গান নিয়ে নিজের মতো মেতেছিলেন জীবনের শেষদিনগুলোতে। কিছু পরিকল্পনাও করছিলেন তরুণদের ব্যাণ্ডের প্রতি আগ্রহী করার জন্য। মাত্র দুদিন আগেও রংপুরে কনসার্ট করে এসেছেন তিনি।

সব থেমে গেল! বৃহস্পতিবারের সকালটি এদেশের সঙ্গীতাঙ্গন তথা শোবিজের জন্য হয়ে গেল শোকের সাগরে ভেসে যাওয়ার সকাল। একেবারেই নিরবে নিরবে চলে গেলেন ব্যান্ড লিজেণ্ড আইয়ুব বাচ্চু। আজ সকাল ১০টার কিছু পরে রাজধানীর পান্হপথের স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তারকা।

তার অকস্মাৎ মৃত্যুতে হতবাক হয়ে গেছেন তার ভক্ত-অনুরাগী ও সহকর্মীরা। সবারই কৌতুহল কী হয়েছিলো বাচ্চুর? কেন এভাবে হুট করেই চলে যাওয়া?

স্কয়ার হাসপাতা‌লের সা‌র্ভিস বিভা‌গের প‌রিচাল ড. মির্জা না‌জিমু‌দ্দিন জানালেন, আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ৮টার দিকে তার নিজ বাসাতেই। উনি হার্টের রোগী। তার হার্টের রিদমটা কমে গিয়েছিলো শেষদিকে। সেই রিদম হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে আজ সকালে তিনি মারা যান।

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর এক ঘণ্টার ভেতরই স্কয়ার হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্কয়ার হাসপাতালের পরিচালক ডা. মির্জা নাজিমুদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হার্ট অ্যাটাক হয় আইয়ুব বাচ্চুর। বাসাতেই সেটা হয়। ৯টা ৫৫ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।’।

ডা. মির্জা জানান, আইয়ুব বাচ্চুর ড্রাইভারই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন জরুরি বিভাগে নেওয়া হয় তাঁকে। সেই সময় তাঁর মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। জরুরি বিভাগেই মৃত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান হাসাপাতালের চিকিৎসকরা।

ডা. মির্জা বলেন, ‘আইয়ুব বাচ্চু বহুদিন থেকে হৃদরোগে ভুগছেন। সাধারণ মানুষের চেয়েও কম রক্তচাপ ছিল তাঁর হার্টের, সর্বনিম্ন ছিল ত্রিশের ঘরে। এই রোগটির নাম কার্ডিও-মাইওপ্যাথি।’

হৃদরোগের কারণে আইয়ুব বাচ্চু গত কয়েক বছর বারবারই হাসপাতালে এসেছেন চিকিৎসার জন্য। ডা. মির্জা আরো জানান, ‘২০০৯ সালে তাঁর হার্টে রিং পরানো হয়। দুই সপ্তাহ আগে শেষ তিনি স্কয়ার হাসপাতালে এসেছিলেন।’

জনপ্রিয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক। ১৯৭৮ সালে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে। এরপর ১০ বছর সোলস ব্যান্ডে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। আশির দশকে একাধিক একক অ্যালবাম বেরুলেও নব্বইয়ের দশকে ‘ডাবল এলবাম’ দিয়ে এলআরবির যাত্রা শুরু হয়। তখন ব্যান্ডটির নাম ছিল ‘লিটল রিভার ব্যান্ড’। পরে ব্যান্ডের নাম পাল্টে রাখা হয় ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ‘চলো বদলে যাই’, ‘ফেরারি মন’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘হকার’, ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’,‘বাংলাদেশ’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি। সঙ্গীতজগতে তিনি এবি নামে পরিচিত হলেও তাঁর ডাকনাম ছিল রবিন। এ নামেও তিনি নব্বইয়ের দশকে একক এলবাম বের করেন।

Source: www.ntvbd.com

করোনা ভাইরাস - লাইভ আপডেট

# দেশ আক্রান্ত মৃত সুস্থ