চোখে জল এনে দিলেন তামিম ইকবাল

নিউজ ডেস্ক আপডেট:১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ চোখে জল এনে দিলেন তামিম ইকবাল

হাসপাতাল থেকে ফিরে বিষণ্ন মুখে বসে ছিলেন ড্রেসিংরুমে। হয়তো ভাবছিলেন, ‘ইশ্‌! আবার যদি ব্যাট হাতে নামতে পারতাম...।’ কল্পচোখেও যদি দেখেন, তামিমের ভাবনায় বিদ্যুচ্চমকের মতো তখন কী খেলে গেছে, সেটি পড়ে ফেলা কঠিন কিছু নয়। মুশফিকুর রহিম উইকেট থিতু হয়ে গেছেন। লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে লড়াই করে সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন। মুশফিকের শুধু একজন সঙ্গী দরকার, যাঁর শুধু অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকলেই চলবে। বাকিটা মুশফিকই করে নেবেন।

তামিম মাঠে নেমে এক বল মোকাবেলা করতে হয়েছে সুরঙ্গা লাকমালকে। বডি লাইনে আসা বলটি তামিম এক হাত দিয়ে ধরা ব্যাটে মোকাবেলা করলেন। এরপর বাংলাদেশ দল আরও ১৫ বল মোকাবেলা করেছে শ্রীলঙ্কাকে। প্রতিটি বলই খেলেছেন মুশফিক। তামিমের সঙ্গে সিঙ্গেল ছিল ২টি। অর্থ্যাৎ, দুই ওভারের শেষ দুই বলে। মুশফিক গেছেন স্ট্রাইকে।

মুশফিককে সঙ্গ দিয়ে তামিম বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ করেছেন আরও ৩২টি রান। অবিশ্বাস্য! সবগুলো রানই হয়তো নিয়েছেন মুশফিক। কিন্তু তামিমের অসাধারণ সাহসিকতা না থাকলে তো এটা মোটেও সম্ভব হতো না। শেষ মুহূর্তে মুশফিক হয়তো চড়াও হয়ে খেলেছেন। তামিমের সাহসের নিজের মধ্যে আরও বেশি সাহস সঞ্চার করার চেষ্টা করেছেন।

সেই সাহসে বলিয়ান হয়ে লঙ্কান বোলারদের একের পর এক পাঠিয়েছেন মাঠের বাইরে। মুশফিক চেষ্টা করেছেন তামিমের এই আত্ম নিবেদনের মূল্য রাখতে। তিনি পেরেছেন। সফল হয়েছেন। নিজের স্কোর হয়তো ব্যাক্তিগত ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। কিন্তু তামিমের সাহসিকতাই এখানে সবার কাছে মূখ্য হয়ে উঠেছে।

টুইটারে ঝড় বয়ে গেছে তামিমের এভাবে মাঠে নামা দেখে। দ্বীপ নামে একজন লিখেছেন, ‘আমি আত্মনিবেদনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ দেখতে পাচ্ছি এই মুহূর্তে।’ নোমান নামে একজন লিখলেন, ‘ও ভাই!!! এই লোককে স্যালুট জানাতে হয়। তামিম ইকবাল ইউ আর গ্রেট।’

আবু তালহা মীর নামে একজন লিখেছেন, ‘ব্যাট হাতে তামিম মাঠে হাঁটছেন...। আমি স্বপ্ন দেখছি না তো!’ আতাউর রহমান বলেন, ‘কেউ যদি বলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো দৃঢ় সংকল্প নেই, সে যেন তামিম ইকবালকে দেখে।’

সজিবুল নামে একজন লিখেন, ‘অবিশ্বাস্য তামিম ইকবাল। আই লাভ ইউ ম্যান! তার এই অবিশ্বাস্য সাহসিকাত দেখে সত্যিই আমার চোখে পানি এসে গেছে।’ অ্যাডলি নামে একজন লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ দলের স্কোর যা হয় এখন, সবগুলোই তামিমের নামে লিখে দেয়া উচিৎ।’ রুশদি নামে একজন লিখেছেন, ‘এটাই হলো সাহসী আত্মা। এটাই সাহস। এটাই হচ্ছে সঠিক দেশপ্রেম। হ্যাটস অব তামিম।’

তামিম ইকবাল আপনি যে সাহসিকা আজ দেখালেন, যে উদাহরণ আজ সৃষ্টি করলেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সাহসিকতা, দেশপ্রেম বলতে আমরা শুধু মাশরাফিকেই বুঝতাম। সাতটি বড় অস্ত্রোপচার করেও যে হাঁটু নিয়ে মাশরাফি নিয়মিত খেলে যান শুধু দেশের টানে, সেখানে যে আপনার মধ্যেও এতবড় দেশপ্রেম বিদ্যমান, আজকের এই দৃশ্য না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না। স্যালুট তামিম ইকবাল, আপানাকে।

তামিরম জন্যই এই ম্যাচটা এখন জেতা উচিৎ বাংলাদেশের।

Source: www.prothomalo.com