শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে শুভ সূচনা বাংলাদেশের

নিউজ ডেস্ক আপডেট:১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে শুভ সূচনা বাংলাদেশের

লক্ষ্য ২৬২ রান। এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওভার শেষ না হতেই ২২ রান তুলে ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা। তখন মনে হয়েছিল শ্রীলঙ্কা হয়তো সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে। এর পরই চিত্রটা পাল্টে যায়, দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলেই লঙ্কান ব্যাটসম্যান কুশল মেন্ডিসকে সাজঘরে ফেরান বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। সে ধারাবাহিকতায় নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাই ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

শনিবার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিং তোপে শ্রীলঙ্কান ব্যাটিংয়ে ধস নামে। তাই মাত্র ১২৪ রানে ইনিংস গুটিয়ে নেয় তারা।

ইনজুরির ওপর ইনজুরিতে পড়ে তামিমের মাঠ ছাড়া, মালিঙ্গার একের পর তোপে দিশেহারা হয়ে পড়া বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে মুশফিক-মিঠুনের ১৩১ রানের অবিশ্বাস্য জুটি, মুশফিকের অসাধারণ এক সেঞ্চুরির পর শেষ মুহূর্তে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তামিমের মাঠে নামা এবং মুশফিকের বীরোচিত ব্যাটিং- সব কিছুই যেন সত্যি সত্যি এক স্বপ্ন।

সেই স্বপ্নের বাতায়ন খুলে শেষ পর্যন্ত, এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে টিম বাংলাদেশ। তামিম-মুশফিক-মিঠুনদের গড়ে দেয়া ভিতকে পরিপূর্ণতা এনে দিয়েছেন বোলাররা। দুর্দান্ত বোলিং করেছেন বাংলাদেশের মাশরাফি, মোস্তাফিজ, মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন কিংবা সাকিব আল হাসান। ৩৫.২ ওভারে মাত্র ১২৪ রানেই শ্রীলঙ্কাকে অলআউট করে দিয়েছে মাশরাফি অ্যান্ড কোং।

ভাঙা হাত নিয়ে ব্যাট করতে নেমে তামিম ইকবাল যেভাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সাহসের সঞ্চার করেছেন, সেটাই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জয়ের ক্ষেত্রে বিশাল এক অনুপ্রেরণা তৈরি করে দিলো। সেই অনুপ্রেরণা নিয়েই শুরু থেকে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের ওপর চেপে বসে বাংলাদেশের বোলাররা।

বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। ২২ রানে মোস্তাফিজের বলে কুশল মেন্ডিস আউট হওয়ার পর থেকে বিপর্যয় শুরু লঙ্কানদের। ২৭ রান করা উপুল থারাঙ্গাকে বোল্ড করে মাশরাফি একটা বার্তা দিয়ে দেন।

২৮ রানে ২, ৩২ রানে ৩, ৩৮ রানে ৪, ৬০ রানে ৫, ৬৩ রানে ৬ এবং ৬৯ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলঙ্কা। ২৬২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে একের পর এক লঙ্কানদের উইকেট হারানো জয় ত্বরান্বিত হয় বাংলাদেশের।

শুরুতেই ঝড় তুলেছিলেন মোস্তাফিজ এবং মাশরাফি। তাদের সঙ্গে পরে যোগ দেন মেহেদী হাসান মিরাজ এবং রুবেল হোসেনরা। একটি আবার রানআউটও হয়েছে।

লঙ্কানদের কোনো ব্যাটম্যানকেই দাঁড়াতে দিলেন না বাংলাদেশের বোলাররা। সর্বোচ্চ ২৭ রান করেছিলেন উপুল থারাঙ্গা। মাশরাফির বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান তিনি। ১৬ রান করেছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ। ৬ষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে তার উইকেট তুলে নেন রুবেল হোসেন। ১১ রান করেছিলেন কুশল পেরেরা। তার উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

থিসারা পেরেরা ছিলেন শেষের শঙ্কা। কিন্তু তাকে মাত্র ৬ রানেই ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। শেষ মুহূর্তে দিলরুযান পেরেরা আর সুরাঙ্গা লাকমাল ভালো দুটি ইনিংস খেলেন। ২৯ রান করেন দিলরুয়ান। আর লাকমাল করেন ২০ রান।

দিলরুয়ানকে ফেরান মোসাদ্দেক। লাকমালকে বোল্ড করে ফেরালেন মোস্তাফিজ। আমিলা আলফনসোকে ফিরিয়ে দিয়ে উইকেটের খাতায় নাম লেখান সাকিবও। মাশরাফি, মোস্তাফিজ এবং মিরাজ নেন ২টি করে উইকেট। সাকিব, রুবেল এবং মোসাদ্দেক নেন ১টি করে উইকেট।

Source: www.jagonews24.com